সৌদি আরবের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাত ২০২৪ সালে আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এতে খাতটির মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত সম্পদের পরিমাণ প্রথমবারের ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি সৌদি রিয়ালে (২৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার) উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা ফিচ রেটিংস। খবর আরব নিউজ।
সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালেও সৌদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাত ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ আকর্ষণ করে যাবে। এ সময়ের মধ্যে সংস্থাগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত সম্পদের (এইউএম) পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি রিয়াল ছাড়িয়ে যাবে।
খাতটির গতিশীল অবস্থানের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে ফিচ রেটিংস। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগকারী বৃদ্ধি, অনুকূল জনসংখ্যা, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার, শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ।
ফিচে ইসলামী অর্থায়ন বিভাগের বৈশ্বিক গ্লোবাল প্রধান বাশার আল-নাতুর বলেন, ‘সৌদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা শিল্প হলো জিসিসিভুক্ত (গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল) দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড়। যার এইউএম এরই মধ্যে ১ লাখ কোটি রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতেও আরো প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সৌদি এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত প্রায় সব মিউচুয়াল ফান্ড শরিয়াহ সম্মত, যা শরিয়াহভিত্তিক পণ্যের শক্তিশালী চাহিদার ইঙ্গিত দেয়।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ফিচের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালে সম্পদ ব্যবস্থাপনা সেবা নিচ্ছেন এমন সৌদি ধনীদের সংখ্যা বাড়বে, যা খাতটির প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল করবে।
সৌদি সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির ৪০ শতাংশের সমতুল্য সম্পদ এ খাতে আনতে চায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত বছরের শেষ নাগাদ সৌদি আরবে ব্যাংক-সম্পৃক্ত অ্যাসেট ম্যানেজাররা শিল্পটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আয় অর্জন করেছে।
ফিচ সতর্ক করে দিয়েছে, চলতি বছর সৌদি আরবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা শিল্পে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হতে পারে। কারণ এরই মধ্যে ব্ল্যাকরক, গোল্ডম্যান স্যাকস, মরগান স্ট্যানলি, সিটিগ্রুপ ও মিজুহো ব্যাংকের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশটিতে আঞ্চলিক সদর দপ্তর স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে।
সৌদি আরবের এ খাতে বিনিয়োগকৃত সম্পদের প্রায় অর্ধেকই রয়েছে প্রাইভেট ফান্ডে। এরপর রয়েছে ডিসক্রেশনারি পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট ও পাবলিক ফান্ড।
প্রাইভেট ফান্ডের সম্পদ প্রধানত রিয়েল এস্টেট ও ইকুইটিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিসক্রেশনারি পোর্টফোলিওর অধীনে অর্ধেক সম্পদই স্থানীয় শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাবলিক ফান্ডের সম্পদ মানি মার্কেট ফান্ড, ইকুইটি, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি) ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
ফিচ আরো উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের শেষে জিসিসি অঞ্চলের তালিকাভুক্ত ইকুইটি বাজারগুলোর সম্মিলিত বাজার মূলধন ৪ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার নেতৃত্বে ছিল সৌদি এক্সচেঞ্জ।